নোমান মিয়া চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু কথার ফুলঝুরি নয়—বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করলেন শিল্পপতি ও সায়হাম নীট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের গোসাপাড়া গ্রামে একটি সাবমার্সিবল গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকা কয়েকশ পরিবার এখন নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সৈয়দ মোঃ ফয়সল। তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন দুই পুত্র—সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। তারা মাধবপুর ও চুনারুঘাটের প্রত্যন্ত অঞ্চল, এমনকি ২৮টি চা বাগান এলাকাতেও গিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেন। সেসময় বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল অন্যতম প্রধান অভিযোগ।
নির্বাচনের পর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তারা প্রায় ৪৫ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া চাকলাপুঞ্জি চা বাগানে শ্রমিকদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি নাটমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গোসাপাড়া গ্রামে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা দুর্ভোগে ছিলেন। নতুন নলকূপ স্থাপনের ফলে এখন নিরাপদ পানি সহজলভ্য হয়েছে।
গোসাপাড়া গ্রামের বিএনপি সভাপতি সালাউদ্দিন বাবলু বলেন, “রাজনীতিতে অনেক প্রতিশ্রুতি শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবায়ন কম দেখা যায়। সৈয়দ ইশতিয়াক ও সৈয়দ শাফকাত সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন। তারা যা বলেন, তা বাস্তবে রূপ দেন।”
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে আমরা মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করতে।”
তিনি আরও জানান, সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে মাধবপুর-চুনারুঘাট অঞ্চলকে একটি মডেল এলাকায় রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও এলাকাকে সুপেয় পানির আওতায় আনা হবে।