নোমান মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে মূল্যবান সেগুনগাছ কেটে চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বন বিভাগের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাতের আঁধারে ২ টি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এই বনাঞ্চলে নিয়মিত গাছ কেটে পাচারের সঙ্গে জড়িত। এতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়ছে।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান: জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়
প্রায় ৮৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বনাঞ্চলে রয়েছে সাতটি প্রাকৃতিক ছড়া, যেখান থেকে উদ্যানটির নামকরণ করা হয়েছে।
এই উদ্যানের বনভূমিতে বসবাস করে উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ নানা বিরল প্রজাতির প্রাণী। পাশাপাশি এখানে রয়েছে শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ, যা বনকে দিয়েছে অনন্য পরিবেশগত গুরুত্ব।
অভিযোগ: কাঠচোর সিন্ডিকেটের পেছনে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রে শুধু কাঠচোররাই নয়—বন বিভাগের অসাধু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি
এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন,
“দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে কারা জড়িত থাকতে পারে।”
চুনারুঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান,
“এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গাছ চোরদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন,
“বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”