“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”— এই চিরন্তন বাণীকে বাস্তবে রূপ দিয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ। সংগঠনটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে গ্রামের এক অসহায় ও পিতৃহীন তরুণীর বিয়ে।
গত শুক্রবার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যুব সংঘের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পুরো আয়োজনটি গ্রামবাসীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
জানা যায়, পিতৃহীন ওই তরুণীর বিয়ের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় সংগঠনটি। তাদের উদ্যোগে নবদম্পতির নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী, বিছানাপত্রসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন, রান্নাবান্না ও বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সংঘের সদস্যরা নিজ দায়িত্বে সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুরুব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ ও শুভকামনা জানান।
এ বিষয়ে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মো. কেফায়েত উল্লা বলেন,
“একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে এবং মেয়েটির সুন্দর ভবিষ্যতের অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এটি শুধু দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতি আমাদের গভীর দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী সদস্যরা দূরে থেকেও অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন,
“গ্রামের মুরুব্বি, উপদেষ্টা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় এই মহৎ কাজ সফল হয়েছে। ভবিষ্যতেও সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ সামাজিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।”
এদিকে যুব সংঘের এমন সুশৃঙ্খল ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের মতে, এই আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং যুব সমাজকে মানবসেবামূলক কাজে আরও উৎসাহিত করবে।
উক্ত মহৎ আয়োজন সফল করতে মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাওছার মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি লিটন মিয়া, শাহিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলি দরবেশ, সমাজসেবা সম্পাদক ইব্রাহিম মিয়া, অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরাও বিয়েবাড়ির ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন ও বিদায় মুহূর্ত পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবিক এই উদ্যোগ এখন এলাকায় প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।