চুনারুঘাট প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রাজারবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে উদযাপন এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ জোগাতেই এ আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিক আনোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাওসার শোকরানা।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌফিক আনোয়ার বলেন, ভালো ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই শিক্ষার শেষ কথা নয়। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়া, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাওসার শোকরানা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত ভূমিকা থাকে। ভবিষ্যতেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজারবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষার এ ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নাচ, গান ও বিভিন্ন পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
কৃতি শিক্ষার্থীদের এমন অর্জনে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের মাঝে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথে আরও উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।