
চুনারুঘাট প্রতিনিধি:কিছুক্ষণ আগে ২০১৫ সালে প্রকাশিত দৈনিক সমাচার পত্রিকার একটি সংবাদ ও চুনারুঘাট মধ্যবাজারে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান এক ব্যক্তি। সঙ্গে লেখা ছিল অনেক কথা। পুরোনো সেই ছবি ও সংবাদটি চোখে পড়তেই দীর্ঘ এক দশক আগের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের সময় নিয়মিত রাজপথে ছিলেন চুনারুঘাটের বিএনপির তৎকালীন নেতাকর্মীদের একটি অংশ। স্মৃতিচারণকারী ওই ব্যক্তি জানান, ২৯ জানুয়ারি সকালে মিছিল শেষে তারা চলে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে আন্দোলনের বিরোধিতা করে একটি লাঠি মিছিল বের হয়। কারা ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন, তা তিনি উল্লেখ করতে চাননি। তবে তার দাবি, ওই মিছিলে চুনারুঘাট আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না।
তিনি জানান, ওই ঘটনার পর চুনারুঘাট বাজার থেকে বিএনপির নুরুল আমিন, খাইরুল, লাল মেম্বার ও শ্যামলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই তাকে ১ নম্বর আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২২ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি আরও ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সে সময় রাজপথের সক্রিয় নেতাকর্মীদের অনেকেই বাড়িঘরে থাকতে পারতেন না। দিনে রাজপথে আন্দোলন আর রাতে আত্মগোপন—এভাবেই কাটত সময়। এমনকি যারা নিয়মিত রাজপথে আসতেন না, তাদেরও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দিনে-রাতে বাড়িতে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো বলে জানান তিনি।
ওই সময় পৌর যুবদলের রফিক তালুকদারও গ্রেপ্তার হন। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তার হন যুবদলের তৎকালীন সভাপতি আবদুল মতিন। স্মৃতিচারণকারী বলেন, সে সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সক্রিয় অনেক নেতাকর্মীই বাড়িতে থাকতে পারতেন না। স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবার খোঁজ নেওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমনই এক দুঃসহ সময়ে ১০ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট মধ্যবাজারে একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল—‘পেট্রোল বোমা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন’। পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমাচার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটির শিরোনাম ছিল—‘চুনারুঘাটে সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মানববন্ধন’।
পুরোনো সেই সংবাদ ও ছবি