
চুনারুঘাটে প্রতিকার চেয়ে মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, থানায় লিখিত অভিযোগ
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গিয়েও নিরাপত্তা মিলেনি বলে অভিযোগ করেছেন মোঃ ইদ্রিছ আলী (৩০)। বাড়িতে হামলা, পরিবারের এক নারী সদস্যকে মারধর, নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে চুনারুঘাট মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। একই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার ৯নং রানীগাঁও ইউনিয়নের মানিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইদ্রিছ আলী জানান, একই গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ইদ্রিছ আলীর বসতঘরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হামলা চালায়। এ সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁর বোন জামিমাকে মারধর করা হয়। অভিযুক্তরা তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নীলাফুলা জখম করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বসতঘরের মালামাল তছনছ করে সুকেসের ড্রয়ার থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন ইদ্রিছ আলী। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাঁদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোথাও বিচার চাইলে ইদ্রিছ আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে আহত জামিমাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
সংবাদ সম্মেলনে ইদ্রিছ আলী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।