1. live@www.dainikhabigonjeralo.com : দৈনিক হবিগঞ্জের আলো : দৈনিক হবিগঞ্জের আলো
  2. info@www.dainikhabigonjeralo.com : দৈনিক হবিগঞ্জের আলো :
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সততা-স্বচ্ছতায় মানুষের কাজ করে যাচ্ছি: মাধবপুরে এমপি ফয়সল শফিকুর রহমানের রোগমুক্তি কামনায় রাণীগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল। চুনারুঘাটের গাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে পিতার সন্ধানে পুত্রের   সাংবাদিক সম্মেলন। চুনারুঘাটে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি পন্ডিত মিয়া গ্রেপ্তার হাকাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত সাংবাদিক নোমান মিয়া চুনারুঘাটে ধানের জমি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দাবি পুলিশের চুনারুঘাটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ২ জন গ্রেফতার চুনারুঘাটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল মিয়া গ্রেপ্তার চুনারুঘাটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তাদির চৌধুরী গ্রেফতার

রাজনীতিতে তারুণ্যের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ আবু নাঈম হালিম

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

সংগ্রাম, কারাবরণ ও রাজপথ পেরিয়ে জননেতা হওয়ার পথে এক আপসহীন যোদ্ধা

নোমান মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চুনারুঘাটের রাজনীতিতে এমন কিছু নাম আছে, যেগুলো উচ্চারিত হলেই ভেসে ওঠে আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন এবং রাজপথের লড়াইয়ের দৃশ্য। তেমনই এক পরিচিত নাম সৈয়দ আবু নাঈম হালিম। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সাহসী, ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে।
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় যখন অনেকেই মামলা-হামলার ভয়ে পিছিয়ে গেছেন, তখন সৈয়দ আবু নাঈম হালিম ছিলেন রাজপথের অগ্রসৈনিক। দমন-পীড়ন, গ্রেফতার, হামলা, মামলা—সবকিছুকে উপেক্ষা করেই তিনি দলীয় কর্মসূচিতে ছিলেন সরব। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ বছর তাকে কাটাতে হয়েছে কারাগারে, আদালতে কিংবা রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যে। তবুও তার কণ্ঠ থামেনি, থামেনি রাজপথের লড়াই।
সৈয়দ আবু নাঈম হালিমের রাজনৈতিক পথচলার শুরু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে। ছাত্রজীবনেই তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা, সাহসী নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি পান। অল্প সময়েই তিনি চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হন। পরে তিনি আহ্বায়ক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তার নেতৃত্বে চুনারুঘাটের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য তরুণ ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। অনেকের মতে, চুনারুঘাটে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার পেছনে হালিমের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত “রাজপথের নেতা” ও “স্লোগান মাস্টার” হিসেবে। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি করত। ঢাকার ১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে টানা প্রায় তিন মাস কারাগারে রাজবন্দী থাকেন তিনি।
তার জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রমাণ পাওয়া যায় তার গ্রেফতারের পর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মুক্তির দাবিতে চুনারুঘাট বাজারে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্ধদিবস দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন—যা একজন নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার বড় প্রতিফলন।
বর্তমানে সৈয়দ আবু নাঈম হালিম চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য হিসেবেও সক্রিয় রয়েছেন। তার রক্ত, ঘাম ও ত্যাগ মিশে আছে চুনারুঘাটের রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে—এমনটাই বলছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক মাঠের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করেছেন তিনি। ২০১১ সালে প্রথমবার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হন। পরে বাংলাদেশের প্রথম নারী ইউপি চেয়ারম্যান, সদ্য প্রয়াত আলহাজ বেগম শামছুন্নাহার চৌধুরীর সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও বিজয় তার হাতে আসেনি, তবে প্রতিবারই তিনি শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি আরও বেশি সময় দিচ্ছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কল্যাণে। সামাজিক উদ্যোগ, জনসেবা, উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয়দের মতে, সৈয়দ আবু নাঈম হালিম শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি এমন একজন সংগঠক, যিনি সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ান। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, উন্নয়নমুখী চিন্তা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সমর্থকদের বিশ্বাস, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা তাকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে সৈয়দ আবু নাঈম হালিম বলেন,
“রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন থাকলে ইউনিয়নের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চাই।”
সৈয়দ আবু নাঈম হালিম শুধুই একটি নাম নয়—এটি ২৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক। শত শত হামলা-মামলা, দীর্ঘ কারাবরণ, নির্যাতন ও আপসহীন রাজপথের লড়াই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ছাত্রনেতা থেকে জননেতা হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ যাত্রা চুনারুঘাটের রাজনীতিতে তাকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা।
সংগ্রাম, সাহস, ত্যাগ এবং জনসম্পৃক্ততার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—সৈয়দ আবু নাঈম হালিম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

হবিগঞ্জের ২৮টি চা-বাগানে শ্রমিকদের আন্দোলন প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত স্থগিত। চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার ২৮টি চা-বাগানের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। মজুরি বৃদ্ধি, উন্নত আবাসন, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং অন্যান্য ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং চা-শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চা-শ্রমিক নেত্রী খায়রুন বলেন, “আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হলেও আমাদের দাবি থেকে আমরা একচুলও সরে আসিনি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান না হওয়া পর্যন্ত দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন শামসু, চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক তালুকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক তরফদার, যুবদলের সদস্য সচিব জালাল আহমেদ, মারুফ আহমেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। এ সময় চুনারুঘাট থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। সভা শেষে চা-শ্রমিকরা আশা প্রকাশ করেন, তাদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানবিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট