চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাণীগাঁও ইউনিয়নের সোনাজোরা মৌজায় জোরপূর্বক জমি দখল, নারীকে শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা নুরুল আমিন, জসিম মিয়া ও রানীগাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত দুই নারীসহ কয়েকজন। এ নিয়ে মোঃ আরজু মিয়া বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৮৩/৩৫৪/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কগ-২), হবিগঞ্জ নালিশা দরখাস্ত ও ২০০ ধারার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা তার দখলীয় জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এসময় নুরুল আমিনের নির্দেশে সবুজ মিয়া রামদা দিয়ে আছমা আক্তারের মাথায় কুপ মারে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মাথায় ৯-১০টি সেলাই লাগে। একই সময়ে আসামি সিরাজ আলী লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে আহত হন আরও একজন। অন্যদিকে জসিম উদ্দিন গামছা দিয়ে গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালায় এবং শাহ আলম ও স্মৃতি আক্তার কাঠের রুইল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে নুরুল আমিন ও সবুজ মিয়া আছমা আক্তারের পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে। এসময় স্মৃতি আক্তার তার গলা থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ও ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। শোরগোল শুনে প্রতিবেশী রাশিদা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তারা ২০ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নুরুল আমিন এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মাসোহারা আদায় করে আসছেন। তার ছোট ভাই নজরুল ইসলামের মাধ্যমে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক অডিওতে তাকে প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাইতে শোনা যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে শোনা যায় তাকে। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও বহুল আলোচিত অপকর্মের হোতা মিজান মেম্বারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রানীগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান লাল মেম্বার এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দুঃসময়ে দলের জন্য জেল খেটেছি। আজ কিছু সুবিধাবাদী হাইব্রিড নেতা ব্যক্তিস্বার্থে দলের সুনাম নষ্ট করছে। তারা দলকে বিক্রি করে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে, যা আমাদের জন্য লজ্জার।” তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির শেষ কাউন্সিল হয়েছে প্রায় ৮-৯ বছর আগে। এরপর থেকে জোড়া-তালি দিয়ে চলা কমিটির সুযোগ নিয়ে এসব নেতারা পদবী ব্যবহার করছে। তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।