
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি | হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১০নং মিরাশি ইউনিয়নে প্রবাহিত লাগুলিয়া নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে নদী ভরাট, জবরদখল এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্থায়ী দখল প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকার কৃষিকাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিরাশি ইউনিয়নের পড়াঝার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া লাগুলিয়া নদীর একটি বড় অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করেছেন স্থানীয় ফুল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া। শুধু ভরাট করেই ক্ষান্ত হননি, সেখানে গাছ লাগিয়ে দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। নদীর পাড়ের বিভিন্ন স্থানে এমনভাবে গাছ রোপণ করা হয়েছে যে, কৃষকদের ধান পরিবহনের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এই নদীর পানি ব্যবহার করে দুই তীরের শত শত একর জমিতে সেচ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই নদী। কিন্তু নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং জলাবদ্ধতার কারণে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষকরা বাধা দিলে লিটন মিয়া ও তার মা পারুল আক্তার তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখান। এ বিষয়ে লিটন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার জমির সঙ্গে নদী, তাই এটি আমার। আমি ভরাট করেছি এবং এটি এভাবেই থাকবে।”
ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক মোড় নেয় যখন এই বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লিটন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এমনকি সংবাদ প্রকাশের পর রাতের আঁধারে নদীর ভেতরের বাঁশের বেড়া সরিয়ে ফেলা হয় এবং সাংবাদিককে ফোন করে ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হলে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেওয়া হয়।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমানের নজরে আনা হলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও’র উপস্থিতিতেই লিটনের মা পারুল আক্তার গ্রামবাসীর ওপর চড়াও হন।
এ বিষয়ে ইউএনও মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, “আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই নদী বা নালা ভরাট করা যাবে না। ভরাটকৃত অংশ থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মাটি অপসারণ করে নদী দখলমুক্ত না করলে লিটনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, বিপন্ন লাগুলিয়া নদী রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।