1. live@www.dainikhabigonjeralo.com : দৈনিক হবিগঞ্জের আলো : দৈনিক হবিগঞ্জের আলো
  2. info@www.dainikhabigonjeralo.com : দৈনিক হবিগঞ্জের আলো :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চুনারুঘাট সরকারি কলেজে এইচএসসি ফলাফলে ধারাবাহিক অবনতি, সাত বছরের পরিসংখ্যানে উদ্বেগ চুনারুঘাটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে ড্রাইভার শ্রমিক একতা সংগঠনের ফুলেল শুভেচ্ছা চুনারুঘাটে তারেক পরিষদের ১১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা কমিটি অনুমোদন চুনারুঘাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান, প্রধান অতিথি চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম চুনারুঘাটে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌর যুবদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চুনারুঘাটে উপজেলা যুবদলের বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত রানীগাঁও বাজারে মাদক, জুয়া ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত আহম্মদাবাদের জনপদে জাকির হোসেন পলাশ: জনসেবা, নেতৃত্ব ও পথচলার সংগ্রাম চুনারুঘাটে মাদক সেবন ও বহনের দায়ে একজনের ১৫ দিনের কারাদণ্ড চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন, ট্রাক্টরসহ আটক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

চুনারুঘাট সরকারি কলেজে এইচএসসি ফলাফলে ধারাবাহিক অবনতি, সাত বছরের পরিসংখ্যানে উদ্বেগ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

 

কলেজ প্রতিনিধি :একসময় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করা হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত সাত বছরে ধারাবাহিক অবনতির চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
প্রাপ্ত ফলাফলসংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে চুনারুঘাট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ৯৫৫ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করে। ২০২১ সালে ৯৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৯০৮ জন। ২০২২ সালে ৯৫৮ জনের মধ্যে পাস করে ৮৭৮ জন। তবে ২০২৩ সাল থেকে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি শুরু হয়। ওই বছর ৭৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় মাত্র ৫০৩ জন।
পরবর্তী বছরগুলোতে ফলাফলের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালে ৯০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৬৮৩ জন। ২০২৫ সালে ৭৯৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় মাত্র ৩৮৯ জন। আর সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৫৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৭৮ জন।
২০২৬ সালের ফলাফল অনুযায়ী, কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৫১ দশমিক ২৩ শতাংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। টানা দুই বছর পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় পরিস্থিতি আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সাত বছরের ফলাফলে যে চিত্র উঠে এসেছে
সাত বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের শতভাগ পাসের সাফল্য থেকে কলেজটি বর্তমানে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি শুরু হয়ে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে তা আরও প্রকট হয়েছে। একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদানের মান, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ এবং কলেজের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে পরপর দুই বছর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হচ্ছে, নিয়মিত ক্লাস ও পাঠদান কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস কিংবা বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রয়োজন নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও জবাবদিহি
শুধু ফলাফল প্রকাশের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কলেজ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ, অতিরিক্ত ক্লাস, নিয়মিত পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ফলাফল উন্নয়নে একটি বিশেষ একাডেমিক তদারকি কমিটি গঠন করাও সময়ের দাবি।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
চুনারুঘাট সরকারি কলেজ এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই কলেজের সঙ্গে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, অভিভাবকদের প্রত্যাশা এবং এলাকার শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। তাই ফলাফলের এই অবনতিকে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দোষারোপের বিষয় হিসেবে না দেখে শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অতীতের সাফল্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভালো ফলাফলের ধারায় ফিরে আসাই হওয়া উচিত কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।
এখন দেখার বিষয়, সাত বছরের ফলাফলের এই উদ্বেগজনক চিত্র পর্যালোচনা করে চুনারুঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট