
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-এর একটি চা-বাগানে শ্রমিক বাবুল ফুলমালীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় মতবিনিময় করেছেন।
আলাপকালে চা-শ্রমিক বাবুল ফুলমালী তাঁদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি জানান, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই অঞ্চলে আনা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলে শোষণ, বঞ্চনা ও অমানবিক নির্যাতন। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজও চা-শ্রমিকদের জীবন সীমাবদ্ধতা, কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে।
বাবুল ফুলমালীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি চা-শ্রমিকদের বর্তমান জীবনযাত্রা, শ্রমের পরিবেশ, মজুরি, সামাজিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় উঠে আসে, অধিকাংশ চা-শ্রমিকের জীবন প্রতিদিন একই চক্রে আবর্তিত হয়—ভোরে কাজে যাওয়া, দিনভর কঠোর পরিশ্রম, সন্ধ্যায় ঘরে ফেরা এবং পরদিন আবার একই সংগ্রামে ফিরে যাওয়া। রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারণ কিংবা রাজনীতির সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা খুবই সীমিত; জীবিকার সংগ্রামই তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের প্রধান বাস্তবতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে পারে, যখন সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবন, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়।” তিনি আরও বলেন, চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, জীবনসংগ্রাম এবং ন্যায্য অধিকার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
তিনি দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চা-বাগানের মানুষের ইতিহাস, তাঁদের অবদান এবং বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তবেই এই জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।