
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিয়েছেন মিজ নাজমুন্নাহার নাঈম। বর্তমানে তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শৈশবের মেঠোপথ পেরিয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানোর এ পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর সাফল্যের পেছনে রয়েছে মা-বাবার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রম, সন্তানের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং মেয়েকে শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর অদম্য প্রত্যয়।
সমাজের নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে নাজমুন্নাহারের মা-বাবা একটি স্বপ্নই লালন করেছেন—তাঁর মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই স্বপ্ন পূরণে তাঁরা নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের সেই ত্যাগ ও সংগ্রাম আজ সার্থকতার মুখ দেখেছে।
নাজমুন্নাহার নাঈমের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, চুনারুঘাট তথা ১ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। প্রত্যন্ত একটি ইউনিয়ন থেকে উঠে এসে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রমাণ করেছেন—সুযোগ ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
তাঁর সাফল্য কন্যাসন্তানদের শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতার গুরুত্বের কথাও নতুন করে সামনে এনেছে। উপযুক্ত শিক্ষা ও সুযোগ পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত কন্যাসন্তান শুধু নিজের ভবিষ্যৎই গড়ে না, বরং পরিবারের জন্যও বয়ে আনে সম্মান ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার।
চুনারুঘাটের ১ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের তরুণী ও বালিকাদের কাছেও নাজমুন্নাহার নাঈম এখন অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, স্বপ্ন যদি বড় হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণে অধ্যবসায়, শিক্ষা ও পরিশ্রম থাকে, তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হওয়া সম্ভব।
নাজমুন্নাহার নাঈমের এই অর্জনে গর্বিত চুনারুঘাটবাসী। তাঁর কর্মজীবনের অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হোক—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
শিক্ষা হোক নারীর হাতিয়ার, কন্যাসন্তান হোক পরিবারের গর্ব—দূর হোক অন্ধকার, আলোকিত হোক আগামীর বাংলাদেশ।