চুনারুঘাট প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মিজানকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তার আটকের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে র্যাব ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে মনিপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার এবং স্থানীয়ভাবে ‘মিজান বাহিনী’র প্রধান হিসেবে পরিচিত।
জানা গেছে, মিজানের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট, শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং নারী নির্যাতনসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া একটি গণধর্ষণ মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হলেও দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে চলাফেরা করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের জমিজমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন মিজান। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, ইসলামপুর গ্রামের তৌফিকের ওপর হামলা করে তার পা কেটে দেওয়ার ঘটনাসহ একাধিক সহিংস ঘটনায় মিজানের নাম উঠে এসেছে। অনেকের দাবি, এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠেনি।
এছাড়া, এক নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় মিজানসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে হবিগঞ্জ আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে মামলাটি এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মিজানের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, মিজান বর্তমানে চুনারুঘাট থানা হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
