
সংগ্রাম, কারাবরণ ও রাজপথ পেরিয়ে জননেতা হওয়ার পথে এক আপসহীন যোদ্ধা
নোমান মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চুনারুঘাটের রাজনীতিতে এমন কিছু নাম আছে, যেগুলো উচ্চারিত হলেই ভেসে ওঠে আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন এবং রাজপথের লড়াইয়ের দৃশ্য। তেমনই এক পরিচিত নাম সৈয়দ আবু নাঈম হালিম। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সাহসী, ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে।
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় যখন অনেকেই মামলা-হামলার ভয়ে পিছিয়ে গেছেন, তখন সৈয়দ আবু নাঈম হালিম ছিলেন রাজপথের অগ্রসৈনিক। দমন-পীড়ন, গ্রেফতার, হামলা, মামলা—সবকিছুকে উপেক্ষা করেই তিনি দলীয় কর্মসূচিতে ছিলেন সরব। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ বছর তাকে কাটাতে হয়েছে কারাগারে, আদালতে কিংবা রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যে। তবুও তার কণ্ঠ থামেনি, থামেনি রাজপথের লড়াই।
সৈয়দ আবু নাঈম হালিমের রাজনৈতিক পথচলার শুরু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে। ছাত্রজীবনেই তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা, সাহসী নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি পান। অল্প সময়েই তিনি চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হন। পরে তিনি আহ্বায়ক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তার নেতৃত্বে চুনারুঘাটের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য তরুণ ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। অনেকের মতে, চুনারুঘাটে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার পেছনে হালিমের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত “রাজপথের নেতা” ও “স্লোগান মাস্টার” হিসেবে। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি করত। ঢাকার ১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে টানা প্রায় তিন মাস কারাগারে রাজবন্দী থাকেন তিনি।
তার জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রমাণ পাওয়া যায় তার গ্রেফতারের পর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মুক্তির দাবিতে চুনারুঘাট বাজারে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্ধদিবস দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন—যা একজন নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার বড় প্রতিফলন।
বর্তমানে সৈয়দ আবু নাঈম হালিম চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য হিসেবেও সক্রিয় রয়েছেন। তার রক্ত, ঘাম ও ত্যাগ মিশে আছে চুনারুঘাটের রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে—এমনটাই বলছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক মাঠের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করেছেন তিনি। ২০১১ সালে প্রথমবার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হন। পরে বাংলাদেশের প্রথম নারী ইউপি চেয়ারম্যান, সদ্য প্রয়াত আলহাজ বেগম শামছুন্নাহার চৌধুরীর সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও বিজয় তার হাতে আসেনি, তবে প্রতিবারই তিনি শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি আরও বেশি সময় দিচ্ছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কল্যাণে। সামাজিক উদ্যোগ, জনসেবা, উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয়দের মতে, সৈয়দ আবু নাঈম হালিম শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি এমন একজন সংগঠক, যিনি সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ান। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, উন্নয়নমুখী চিন্তা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সমর্থকদের বিশ্বাস, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা তাকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে সৈয়দ আবু নাঈম হালিম বলেন,
“রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন থাকলে ইউনিয়নের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চাই।”
সৈয়দ আবু নাঈম হালিম শুধুই একটি নাম নয়—এটি ২৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক। শত শত হামলা-মামলা, দীর্ঘ কারাবরণ, নির্যাতন ও আপসহীন রাজপথের লড়াই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ছাত্রনেতা থেকে জননেতা হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ যাত্রা চুনারুঘাটের রাজনীতিতে তাকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা।
সংগ্রাম, সাহস, ত্যাগ এবং জনসম্পৃক্ততার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—সৈয়দ আবু নাঈম হালিম।